BAMCEF UNIFICATION CONFERENCE 7

Published on 10 Mar 2013 ALL INDIA BAMCEF UNIFICATION CONFERENCE HELD AT Dr.B. R. AMBEDKAR BHAVAN,DADAR,MUMBAI ON 2ND AND 3RD MARCH 2013. Mr.PALASH BISWAS (JOURNALIST -KOLKATA) DELIVERING HER SPEECH. http://www.youtube.com/watch?v=oLL-n6MrcoM http://youtu.be/oLL-n6MrcoM

Thursday, April 25, 2013

সুদীপ্ত সেনের চিঠিতে ভারতের অর্থ মন্ত্রী চিদাম্বরমের স্ত্রীর দিকে ্ভিযোগের আঙ্গুল দেখার পর কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই যে রাজ্য সরকার ত বটেই, কেন্দ্র সরকারের দাক্ষিন্য ছাড়া সারা দেশে আইন কানূন কে বুড়ো আক্ষ্গুল দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করার এই খেলা চলতে পারে না৤ পলাশ বিশ্বাস



চার মাসের মধ্যে আরও সংস্কারের ইঙ্গিত চিদম্বরমের!সারদাকাণ্ডে সিবিআই 

তদন্ত নিয়ে ভাবনাচিন্তা হাইকোর্টের

সুদীপ্ত সেনের চিঠিতে ভারতের অর্থ মন্ত্রী চিদাম্বরমের স্ত্রীর দিকে ্ভিযোগের আঙ্গুল দেখার পর কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই যে রাজ্য সরকার ত বটেই,
কেন্দ্র সরকারের দাক্ষিন্য ছাড়া সারা দেশে আইন কানূন কে বুড়ো আক্ষ্গুল দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করার এই খেলা চলতে পারে না৤

পলাশ বিশ্বাস


ভুঁইভোঁড় আর্থিক সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাজ্য সরকারগুলিকে চিঠি দিল কেন্দ্র।  চিঠিতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির পুলিসকে অবিলম্বে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। কর্পোরেট বিষয়কমন্ত্রী শচিন পাইলট এই চিঠি পাঠিয়েছেন সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে। 

গতকাল রাজ্যসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে চিটফান্ড প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে তা জানতে চাওয়া হলে ওই চিঠির বিষয়টি জানান শচীন পাইলট। একইসঙ্গে ভুঁইফোঁড় আর্থিক সংস্থাগুলি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও কেন্দ্র উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানান তিনি। মোবাইল ফোনে বাল্ক এসএমএস, টিভি চ্যানেলের টিকার এবং ডাকঘরে সঞ্চয়ের পাসবুকেও সচেতনতার ব্যাপারে প্রচার চালানো হবে বলেও জানিয়েছেন কর্পোরেট বিষয়কমন্ত্রী।


নয়াদিল্লি: সারদাকাণ্ডে আগামীকাল বৈঠক ডেকেছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক৷ সূত্রের খবর এমনই৷ আগামিকালের এই বৈঠকে থাকবেন ফিনান্সিয়াল সার্ভিস সেক্রেটারি, কর্পোরেট সেক্রেটারি এবং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রকের আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে৷ দেশজুড়ে যে সব পনজি স্কিম চলছে সে বিষয়ে একটি সমীক্ষা করা যায় কীনা তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বৈঠকে৷ সূত্রের খবর, দীর্ঘদিনের দাবি মেনে, এই সংক্রান্ত তদন্ত প্রক্রিয়ায় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াকে সামিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে অর্থ মন্ত্রকের এই বৈঠকে৷ 

সারদা গোষ্ঠীর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-সাংসদদের যোগসাজশের অভিযোগ ক্রমশ জোরাল হচ্ছে। সারদার হয়ে বিজ্ঞাপন করায় তোপের মুখে পড়েছেন দলের কয়েকজন অভিনেতা সাংসদ। তৃণমূল সাংসদ তাপস পালের মতে, পেশাদার অভিনেতা হিসেবে যেকোনও সংস্থার হয়েই বিজ্ঞাপন করতে পারেন তিনি। চিটফান্ড প্রতারণার সমালোচনা করলেও, তাঁর বক্তব্য, মানুষেরও সচেতন হওয়া উচিত। অতি লোভে তাঁতি নষ্ট, এই মন্তব্য করে কার্যত মানুষের ঘাড়েই দায় চাপিয়েছেন তিনি।


যুব কংগ্রেসের বিক্ষোভের জেরে উত্তাল হয়ে উঠল বিধাননগর বিধাননগর এসিজেম আদালত চত্বর। সারদা গোষ্ঠীর কর্ণধার সুদীপ্ত সেন সহ ধৃত তিনজনকে আজ আদালতে পেশ করা হয়। সুদীপ্ত সেনকে নিয়ে পুলিসের ভ্যান আদালত চত্বরে পৌঁছোলে গাড়ি ঘিরে  বিক্ষোভ দেখানো হয় যুব কংগ্রেসের তরফে। দোষীদের কড়া শাস্তির ও সিবিআই তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভে সামিল হন দলীয় কর্মী সমর্থকরা।  

অন্যদিকে, সুদীপ্ত সেনকে কোর্টে পেশ করাকে কেন্দ্র করে আজ উত্তাল হয়ে উঠল বিধাননগর থানাও। সকাল থেকেই বিধাননগর উত্তর থানায় ভিড় জমান আমানতকারী ও এজেন্টরা। এরপরে থানা থেকে সারদাকান্ডের মূল অভিযুক্তদের বার করা হলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। ভিড় সামলাতে থানা চত্বরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকলেও জনরোষের সামনে কার্যত হিমশিম অবস্থা হয় পুলিসের।


সুদীপ্ত সেনের চিঠিতে ভারতের অর্থ মন্ত্রী চিদাম্বরমের স্ত্রীর দিকে ্ভিযোগের আঙ্গুল দেখার পর কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই যে রাজ্য সরকার ত বটেই,
কেন্দ্র সরকারের দাক্ষিন্য ছাড়া সারা দেশে আইন কানূন কে বুড়ো আক্ষ্গুল দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করার এই খেলা চলতে পারে না৤

প্রকাশ্যে জালিয়াতি চলছে রাজনৈতিক শীর্ষ কর্তা, সেলিব্রিটি ও অপরাধচক্রের মধুচক্র চলছে অথছ আইবি, সিবিআই, রিজার্ভ ব্যান্ক, সেবি, আয়কর বিভাগ চোখ বন্ধ করে আছে৤

কারণ হল করপোরেট রাজের মুক্ত বাজার ব্যবস্থা, সব রকম নিয়ন্ত্রণমুক্ত একচিটিয়া ব্রাহ্মণ্যতান্ত্রিক আধিপাত্য৤ ধর্ষণমুখী রাজনীতিতে সংসদ অচল৤ নিষ্প্রভাবী৤ সংবিধান আদৌ লাগু হয়নি৤ চিটফান্ডের এই রাজত্ব মজবুত করতে আবার চিদাম্বরমের ঘোষণা৤চার মাসের মধ্যে আরও সংস্কারের ইঙ্গিত চিদম্বরমের৤


কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর স্ত্রীর সম্পর্কেও 'অভিযোগ' সারদা-কর্তার চিঠিতে|

নিজস্ব প্রতিনিধি,গণশক্তি

কলকাতা, ২৪শে এপ্রিল- সি বি আই-কে লেখা সারদা-কর্তার চিঠিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের স্ত্রী নলিনী চিদাম্বরমের নামে অভিযোগ আছে। গত ৬ই এপ্রিল সুদীপ্ত সেন এই চিঠি সি বি আই-কে লিখেছিলেন বলে জানানো হয়েছে। এই চিঠি সংবাদমাধ্যমের হাতেও এসেছে। চিঠির বিষয়বস্তুর সত্যতা সম্পর্কে এখনও তদন্তকারীদের তরফে কিছু জানানো হয়নি। 

চিঠিতে সুদীপ্ত সেন লিখেছেন, আসামের মনোরঞ্জনা সিং তাঁর পজিটিভ গ্রুপ সারদাকে বিক্রির জন্য যোগাযোগ করেন। সিং চেন্নাইয়ে তাঁর আইনজীবী নলিনী চিদাম্বরমের চেম্বারে আমাকে নিয়ে যান। 'ম্যাডাম চিদাম্বরম' অনুরোধ করেন যাতে গুয়াহাটিতে উত্তর পূর্বের একটি চ্যানেল খোলার জন্য আমি তাঁকে (সিংকে) সাহায্য করি এবং ৪২কোটি টাকা তাঁর কোম্পানিকে দিই। চিদাম্বরম নিজেই চুক্তি তৈরি করেন। কোনো বিরোধ দেখা দিলে তিনিই একমাত্র নিষ্পত্তিকারী বলে চুক্তিতে লেখা হয়। অবিলম্বে আর্থিক সমর্থন দেবার জন্য চিদাম্বরম অনুরোধ করেন। নলিনী চিদাম্বরম তাঁর কনসালটেন্সির মূল্যও স্থির করেন এবং পরবর্তী দেড় বছরে এক কোটি টাকার বেশি তাঁকে দেওয়া হয়েছে। 

চিঠিতে আরো লেখা হয়েছে, নলিনী চিদাম্বরম যখন মনোরঞ্জনা সিংয়ের সঙ্গে কলকাতায় আসতেন বেশির ভাগ সময়েই তাঁর বিমান ভাড়া এবং তাজ হোটেলের বিল সারদাই মিটিয়েছে। সেই পরিমাণও বেশ বড়ো। সেন লিখেছেন, মনোরঞ্জনা সিং আমাকে বলতেন ম্যাডাম চিদাম্বরম পি চিদাম্বরমের স্ত্রী এবং যদি চিদাম্বরম পরিবার আমার পাশে দাঁড়ায় তাহলে দেশে আমার বড় প্রভাব তৈরি হবে। তবে ম্যাডাম চিদাম্বরম কখনোই এই রকম কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। কিন্তু আমার আর্থিক অবস্থা বিবেচনা না করেই ৪২কোটি টাকা দিতে চাপ দিয়েছিলেন। 

এই চিঠিতে নলিনী চিদাম্বরমের সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো দিনক্ষণ লেখা হয়নি। তবে পি চিদাম্বরম তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সম্পর্কে সরাসরি কোনো অভিযোগ এই চিঠিতে নেই। এই অভিযোগ সম্পর্কে নলিনী চিদাম্বরম বা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য জানা যায়নি। 

নলিনী চিদাম্বরম অর্থনৈতিক বিষয়ের বিশিষ্ট আইনজীবী। এর আগেও কয়েকটি ঘটনায় তাঁকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সবচেয়ে বড়ো ঘটনা ঘটে ১৯৯২-এ। হর্ষদ মেহতাকে জড়িয়ে শেয়ার কেলেঙ্কারি সামনে আসে। এই কেলেঙ্কারিতে জড়িত ফেয়ারগ্রোথ ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডে নলিনী চিদাম্বরমের শেয়ার ছিলো। চিদাম্বরম তখন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী। শুধু শেয়ার থাকাই নয়, অভিযোগ ওঠে চিদাম্বরম মন্ত্রী থাকার কারণে 'ইনসাইডার ট্রেডিং'-এর সুবিধা নিচ্ছেন তিনি। সরকারের নীতি কী হবে তা আগাম জেনেই মূলধনী বাজারে শেয়ার খাটানোর সুবিধা নিচ্ছেন। গুরুতর এই অভিযোগের মুখে চিদাম্বরমকে পদত্যাগও করতে হয়।

JUSTICE MARKENDEY KATJU'S OPINION ABOUT MAMATA BANERJEE

"She is totally undeserving to be a political leader in a democratic country like Indiasince she has no respect for constitutional and civil rights of citizens and is totally dictatorial, intolerant and whimsical in her behaviour."

– Justice Markendey Katju, Chairman, Press Council ofIndia

কলকাতা: রাজ্যজুড়ে চিটফান্ডের রমরমার ব্যাপারে তিনি অন্ধকারে ছিলেন এবং গত ১ বৈশাখ অর্থাত ১৫ এপ্রিলই প্রথম বিষয়টি জানতে পারেন বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেও তার যথার্থতা নিয়েই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷ কারণ, এমন বেশ কিছু নথি সামনে এসেছে যা থেকে স্পষ্ট, সারদা সহ একাধিক চিট ফান্ডের অনিয়মের ব্যাপারে বহু আগেই রাজ্য সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন বিভিন্ন ব্যক্তি৷ শহর-গ্রামে তাদের ব্যবসার জন্য মানুষ সর্বস্বান্ত হতে বসেছেন বলে তাঁরা সাবধানবাণী দিয়েছিলেন তাঁরা।যেমন গত বছরের ২৬ অক্টোবর স্টেট লেভেল ব্যাঙ্কার্স কমিটি ফর ওয়েস্টবেঙ্গল-এর এক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রর সামনে সারদা সহ বিভিন্ন চিট ফান্ডের অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরেন ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (ইউবিআই)-এর সিএমডি ভাস্কর সেন৷ অমিত মিত্র ছাড়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত মুখ্যসচিব এ কে চন্দ, অর্থ দফতরের বিশেষ সচিব সহ রাজ্যের পদস্থ আমলা, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আঞ্চলিক অধিকর্তা এবং বিভিন্ন ব্যাঙ্কের পদস্থ আধিকারিকরা৷ ইউবিআই কর্তাটি বলেন, তাঁদের ব্যাঙ্কের বিভিন্ন গ্রামীণ শাখা থেকে জানা যাচ্ছে, বহু নন ব্যাঙ্কিং সংস্থা অলীক প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলছে৷ ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের কথা মাথায় রেখে তাদের স্বার্থরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন৷  ভাস্কর সেন তাঁর বক্তব্যে সারদা সহ কয়েকটি সংস্থার নাম উল্লেখ করেও স্পষ্ট অভিযোগ করেন৷ আজ থেকে প্রায় ছ মাস আগে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কের শীর্ষকর্তা খোদ অর্থমন্ত্রীর সামনে অভিযোগ জানালেন, তাও মুখ্যমন্ত্রী কিছুই জানতে পারেননি, এটা কী করে সম্ভব, এই প্রশ্ন উঠছে৷ তারও আগে যে চিটফান্ডগুলি সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে চলেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়ে গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রসচিবকে চিঠি লেখেন এডিজি নজরুল ইসলাম৷ চিঠিতে সারদা সহ একাধিক চিটফান্ড সংস্থার উদাহরণ তুলে তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করেন তিনি৷
টাকা ফেরত না পেয়ে ২০০৮ সালেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক এবং ফলতা থানায় বেশ কয়েকজন আমানতকারী অভিযোগ দায়ের করেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন নজরুল৷ তিনি আরও লেখেন, 'সম্প্রতি কয়েকটি চিটফান্ড মিডিয়া ব্যবসায় নেমেছে৷ যখন প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়ে যাবে, তখন আমানতকারীদের অর্থ নিয়ে চিটফান্ড মালিকরা পালাবেন৷ মিডিয়াও ভ্যানিশ হয়ে যাবে৷' তিনি আরও লিখেছিলেন, ''...কয়েকজন নেতা বলছেন রাজ্য সরকারের চিট ফান্ডগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা নেই৷ এটা সম্পূর্ণ ভুল৷ চিট ফান্ডগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো আইন রয়েছে৷ 'দ্য প্রাইজ চিটস অ্যান্ড ম্যানি সার্কুলেশন স্কিম (ব্যানিং) আক্ট-১৯৭৮' ব্যবহার করেই চিট ফান্ড পরিচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়৷ অর্থাত্‍ সারদা কেলেঙ্কারির প্রায় ৯ মাস আগে রাজ্য পুলিশের এই পদস্থ কর্তা ভুঁইফোঁড় অর্থলগ্নি সংস্থাগুলির কুর্কীতি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছিলেন৷ নানা মহলে প্রশ্ন, এরপরও মুখ্যমন্ত্রী বলবেন, তিনি আগে কিছুই জানতেন না? অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে অভিযোগ জানানোর পরও তা যদি মুখ্যমন্ত্রীর কানে না যায়, তাহলে আর কাকে বললে সতর্ক হবে রাজ্য সরকার? না কি জেনে বুঝেই শুনেও না শোনার ভান করেছে সরকার? 

http://www.abpananda.newsbullet.in/state/34/36047



কলকাতা: মঙ্গলবারই সারদাকাণ্ডে প্রতারিতদের টাকা ফেরত দিতে তামাকজাত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ কর বসানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ পরদিনই পঞ্চায়েত নির্বাচন সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট প্রশ্ন তুলল, রাজ্যের আর্থিক সঙ্কট থাকলে ভোটের খরচ জোগাতে সরকার কেন কর বসাচ্ছে না? এই প্রশ্ন তুলে বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার মন্তব্য করেছেন, সব কিছুর ওপরেই যখন কর বসছে, তখন ভোট-কর নয় কেন? 
পঞ্চায়েত মামলায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীর সওয়াল শেষ হল বৃহস্পতিবার৷ উত্তর দিতে শুরু করলেন রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা৷ নেতৃত্বে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল বিমল চট্টোপাধ্যায়৷ এদিন শুরুতেই কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে এজি বলেন, রাজ্য নির্বাচন কমিশন বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে অবাস্তব দাবি করছে৷ ভোট পরিচালনার জন্য ২০৯ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে৷ একসঙ্গে এত টাকা চাওয়ার যৌক্তিকতা কোথায়? ১০০ কোটি টাকা তো ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে৷ ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হলে না হয় আরও টাকা দেওয়া হবে৷ শুধু চাইলেই তো হবে না৷ রাজ্যের আর্থিক সঙ্কটের কথা তো সবাই জানে৷ তিনি বলেন, ৮০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী চাওয়া হয়েছে৷ ৮০০ কোম্পানি কেন? টাকা থাকলে ১২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়া যেত৷ কিন্তু আর্থিক সঙ্কটের সমস্যা তো বুঝতে হবে৷ 
তাঁর এই সওয়াল শুনে বিচারপতি মন্তব্য করেন, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে আর্থিক সঙ্কটই যদি অন্তরায় হয়, তাহলে ভোটের খরচ তুলতে সরকার নির্বাচন কর বসাচ্ছে না কেন? সব কিছুর ওপরেই তো কর বসানো হয়৷ রোজ খবরের কাগজ খুললেই তো নতুন করের কথা জানা যায়৷ অর্থ সঙ্কটে নির্বাচন পরিচালনায় কোনওরকম সমঝোতা করার চেয়ে জনগণেরই টাকায় তাঁদের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করতে অসুবিধা কোথায়? 
উত্তরে অ্যাডভোকেট জেনারেল বলেন, বিচারপতির এই পরামর্শ সরকার অবশ্যই বিবেচনা করে দেখবে৷ নির্বাচন কর বসানোর ক্ষমতা রাজ্যের হাতে আদৌ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে৷ 
আইনজীবী মহলের একাংশ মনে করছে, সারদায় টাকা রেখে প্রতারিত হওয়া লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য ত্রাণ তহবিল গড়তে তামাকজাত পণ্যে কর বসানোর সিদ্ধান্তের প্রতি ইঙ্গিত করেই 'কাগজ খুললেই নতুন করের কথা দেখা যায়' বলে মন্তব্য করেছেন বিচারপতি৷ 
এদিকে কমিশনের আইনজীবী সমরাদিত্য পাল এদিন আদালতে বলেন, 
সংবিধানের ২৪৩ (কে) ধারায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের প্রশ্নাতীত এক্তিয়ার সুনিশ্চিত করা আছে৷  এবিষয়ে সুপ্রিম কোর্টেরও একাধিক রায় আছে৷ তেমনই একটি রায় পড়ে তিনি দাবি করেন, সংবিধানের ওই ধারা আসলে একটি ক্ষমতার আধার৷ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট পরিচালনার জন্য সেখান থেকে নেওয়া ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, তা চূড়ান্ত বলে ধরতে হবে৷ 
গ্রাফিক্স আউট

ধ্রুবজ্যোতি প্রামাণিক, এবিপি আনন্দ, 

বিচারপতি জে এস বর্মা প্রয়াত

গুরগাঁওঃ সোমবার রাতে গুরগাঁওয়ের একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়৷ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর৷ চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, একাধিক অঙ্গ বিকল হওয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে জে এস বর্মার৷ গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গত শুক্রবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ ১৯৯৭ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১৯৯৮ সালের ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সামলেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব৷ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানও ছিলেন৷ ১৬ ডিসেম্বরের দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ডের পর, সারা দেশ জুড়ে ধর্ষণ বিরোধী আইন আরও কঠোর করার দাবি ওঠে৷ বিচারপতি জে এস বর্মার নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় সরকার৷ ২৯ দিনের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করে কমিটি৷প্রয়াত বিচারপতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ তাঁকে আইন সম্পর্কে বিরাট জ্ঞান ও ব্যাপক উপলব্ধির অধিকারী একজন মানুষ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অফিস (পিএমও) থেকে ট্যুইট করে বলা হয়েছে, বেশ কিছু ছকভাঙা রায়, সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের প্রতি গভীর সংবেদনশীলতা এবং জনস্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধতার জন্য তিনি সকলের শ্রদ্ধাভাজন হয়ে উঠেছিলেন প্রধানমন্ত্রী খেদ প্রকাশ করে বলেছেন, জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে ওনার খোলামেলা মতামত, পরামর্শ, উপদেশ আর পাব না, এটাই অত্যন্ত বেদনার।

http://www.abpananda.newsbullet.in/national/60-more/35963-2013-04-23-05-59-24


চার মাসের মধ্যে আরও সংস্কারের ইঙ্গিত চিদম্বরমের

কেন্দ্রের ইউপিএ ২ সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আরও বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ করা হবে বলে বুধবার এক সম্মেলনে জানান কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম৷ ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য ইকনমিস্ট আয়োজিত ওই সম্মেলনে চিদম্বরম বলেন অর্থনৈতিক সংস্কারের উদ্দেশে যে কাজ সরকার শুরু করেছে তা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে৷ আগামী দুই থেকে চার মাসের মধ্যে বেশ কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান৷ লোকসভা ভোট এগিয়ে আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে চিদম্বরম বলেন, 'আরও ১৩ মাস কেন্দ্রে এই সরকার থাকবে এবং দেশের জাতীয় উত্পাদন হার ৮ শতাংশে নিয়ে যাওয়া নিশ্চিত করতে বেশ কিছু ছোট কিন্ত্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করা হবে৷' তিনি বলেন, 'আরও অনেক কিছু করা বাকি আছে৷ বাকি বিলগুলি পাশ করাতে হবে৷ বেশ কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এর মধ্যে অনেকগুলি সিদ্ধান্ত আগামী ২-৪ মাসের মধ্যেই নেওয়া হবে৷' আমাদের ছোট ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলি নেওয়া বজায় থাকবে৷ ভারতীয় অর্থনীতির সংস্কার চলতে থাকবে, বলেন অর্থমন্ত্রী৷ 

পার্লামেন্টে জমি বিল, ইনসিওরেন্স বিল এবং পণ্য ও পরিষেবা কর সংক্রান্ত বিল পাশ করানোর জন্য বিরোধী দলগুলির সহযোগীতাও চেয়েছেন চিদম্বরম৷ 'সংস্কারের লক্ষ্যে যে সমস্ত কাজগুলি আমরা করতে চাই তার একটা তালিকা তৈরি করা হয়েছে৷ জমি বিল পাশ করার পাশাপাশি বিমা ক্ষেত্রে ৪৯ শতাংশ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগও চাই আমরা আর প্রধান বিরোধী দল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির সহযোগিতা ছাড়া তা সম্ভব নয়৷' তিনি আরও বলেন, 'কয়লা ও সড়ক ক্ষেত্রে পৃথক নিয়ামক সংস্থা গঠণ করতে চাই৷ রেলের ভাড়া ঠিক করার জন্য একটি পৃথক রেল টারিফ অথরিটিও চায় কেন্দ্রীয় সরকার৷' 
বহুব্র্যান্ডের খুচরো পণ্যে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে ছাড়পত্র দেওয়া, পেট্রোলিয়ামের দামের বিনিয়ন্ত্রণ এবং চিনির আংশিক বিনিয়ন্ত্রণ করার মতো যে সমস্ত সংস্কারমূলক সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকার নিয়েছে তাও উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী৷ ২০১২-১৩ অর্থবর্ষে জাতীয় উত্পাদন হার পাঁচ শতাংশের কাছাকাছি থাকলেও চলতি অর্থবর্ষে তা ৬.১ থেকে ৬.৭ শতাংশের মধ্যে থাকবে বলেই জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী এবং এই কারণেই ভারতীয় অর্থনীতির উপর দেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভরসা সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন তিনি৷ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের যে মাত্রা বহুদিন আগে ঠিক করা হয়েছিল সেগুলি আবার খতিয়ে দেখা দরকার বলেও জানান তিনি৷ 'দেশের অর্থনীতি আরও উন্মুক্ত করতে হবে৷ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের জন্য জায়গা তৈরি করতে হবে আমাদের৷ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থির করা মাত্রা আর প্রয়োজনীয় না হলে তা দূর করাও যেতে পারে,' বলেন চিদম্বরম৷ দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগকে আরও বেশি মাত্রায় তুলে ধরা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি৷ 

বিনিয়োগ সংক্রান্ত মন্ত্রীসভার সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলির প্রশংসা করে চিদম্বরম বলেন দেশের বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এগুলি বড় ভূমিকা পালন করবে বলেন চিদম্বরম৷ তিনি বলেন, 'গত তিনটি বৈঠকে বিনিয়োগ সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা তেল ও গ্যাস, সড়ক ও বিদ্যুত্ প্রভৃতি ক্ষেত্রের বহু প্রকল্পে সবুজ সংকেত দিয়েছে এর পলে দেশে মোট ১,৪০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ এসেছে৷ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাঁধাগুলি সরিয়ে নিলে তা আরও বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি৷ ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে দেশের জাতীয় উত্পাদন হার ৬.১ থেকে ৬.৭ শতাংশের মধ্যে থাকার পাশাপাশি ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষের মধ্যে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৭ শতাংশ হবে বলেও জানান তিনি৷ পণ্য ও পরিষেবা কর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'ইউপিএ ২ সরকারের অবশিষ্ট মেয়াদের মধ্যে এই সংক্রান্ত বিলটি পাশ হওয়ার ৭০ শতাংশ সম্ভাবনা আছে৷' 

চিদাম্বরম-জেটলি তরজায় উত্তপ্ত রাজ্যসভা
May 14, 2012 17:50 

এয়ারসেল-ম্যাক্সিস চুক্তিতে পি চিদম্বরমের পরিবারের যোগাযোগকে ঘিরে বিতর্কে ফের উত্তাল হল সংসদ। সোমবার রাজ্যসভায় এবিষয়ে প্রশ্নোত্তরের শুরুতে তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলির কোনওরকম যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপরই ওই ইস্যুতে একের পর এক প্রশ্ন তুলে ক্রমশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অস্বস্তিতে ফেলে দেন বিরোধী দলনেতা অরুণ জেটলি। একসময় এই বিতর্কের জেরে প্রবল তরজা শুরু হয় ট্রেজারি ও বিরোধী বেঞ্চের সাংসদদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত দুটো পর্যন্ত সংসদ মূলতুবি রাখার নির্দেশ দেন অধ্যক্ষ। 

প্রসঙ্গত, গত ২৬ এপ্রিল জনতা পার্টির সভাপতি সুব্রহ্ম্যণম স্বামীর তরফে অভিযোগ তোলা হয়, ২০০৬ সালে মোবাইল পরিষেবা সংস্থা এয়ারসেলের সঙ্গে ম্যাক্সিসের চুক্তিতে আর্থিকভাবে উপকৃত হয়েছিলেন তত্‍কালীন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের ছেলে কার্তি। অভিযোগ, বিদেশি বিনিয়োগ উন্নয়ন পর্ষদের সায় ছাড়া শিবশঙ্করনের মালিকানাধীন এয়ারসেল সংস্থার শেয়ার কিনতে পারতেন না মালয়েশিয়ার সংস্থা ম্যাক্সিসের কর্ণধার, অনাবাসী ভারতীয় ব্যবসায়ী আনন্দকৃষ্ণন। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, অনুমতির বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছিলেন তত্‍কালীন অর্থমন্ত্রী চিদম্বরম। এরপর এয়ারসেলের বেশ কিছু শেয়ার `অসব্রিজ হোল্ডিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস` নামে একটি কোম্পানি কিনে নেয়। যার আর্থিক মূল্য কয়েক`শো কোটি টাকা। আর এই `অসব্রিজ হোল্ডিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস` নামক কোম্পানিটির ৯৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক চিদাম্বরমের ছেলে কার্তি। তাত্‍পর্যপূর্ণভাবে কার্তি-র সংস্থা এয়ারসেল শেয়ার হাতে পাওয়ার পরেই ম্যাক্সিস গোষ্ঠী এয়ারসেলের সিংহভাগ শেয়ার কেনায় অনুমতি পেয়ে যায়।

এয়ারসেল-ম্যাক্সিস `ডিল` নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে ইতিমধ্যেই ডিএমকে সাংসদ তথা প্রথম ইউপিএ সরকারের টেলিকমমন্ত্রী দয়ানিধি মারানের নামে মামলা করেছে সিবিআই। অভিযোগ, শিবশঙ্করণের উপর চাপ সৃষ্টি করে এয়ারসেলের শেয়ার বিক্রিতে বাধ্য করেছিলেন মারান। ম্যাক্সিসকে শেয়ার বিক্রির আগে টেলি-যোগাযোগ মন্ত্রকের ছাড়পত্র পাওয়া সত্ত্বেও বিভাগীয় মন্ত্রী দয়ানিধি মারানের কাছ থেকে ব্যবসা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয় অনুমতি পাননি শিবশঙ্করন। কিন্তু আনন্দকৃষ্ণনকে স্বত্ব বিক্রির এক মাসের মধ্যেই সেই অনুমতি মিলে যায়। আর এই ঘটনার পরেই মারানের পারিবারিক সংস্থা সান টিভিতে ৫৯৯ কোটি টাকা লগ্নি করেন আনন্দকৃষ্ণন। শিবশঙ্করণ নিজেই এই চাপ তৈরির কথা প্রকাশ্যে আনার পর ২০১১ সালের জুলাই মাসে দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের বস্ত্রমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন দয়ানিধি মারান। বিজেপি`র অভিযোগ মারানের পাশাপাশি এয়ারসেল-ম্যাক্সিস ডিল থেকে আর্থিকভাবে উপকৃত হয়েছেন চিদাম্বরমও। এদিন বিজেপির রাজ্যসভার নেতার কটাক্ষের জবাবে চিদাম্বরম তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সততা নিয়ে কোনও প্রশ্ন না তোলার উপদেশ দেন বিরোধী সাংসদের।



সারদাকাণ্ডে সিবিআই তদন্ত নিয়ে ভাবনাচিন্তা হাইকোর্টের
কলকাতা: সারদাকাণ্ডের তদন্তভার সিবিআই-কে দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার সারদাকাণ্ডে সিবিআই তদন্তের আবেদন জানিয়ে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য করেছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। এ ব্যাপারে সিবিআই, সেবি এবং রাজ্য সরকারের অবস্থান জানতে চেয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে সারদাকাণ্ডে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আগামী ২ মে-র মধ্যে সরকারকে হলফনামা জমার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী শুনানি ৩ মে। 

পাশাপাশি আদালত জানিয়েছে, সারদা কোনও সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারবে না। সারদার সঙ্গে রাজ্য সরকারের কেউ যুক্ত কি না, সে কথা হলফনামায় জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। চিটফান্ড রুখতে সরকার কী কী পদক্ষেপ করছে, জানতে চাওয়া হয়েছে তা-ও। ডিভিশন বেঞ্চ মনে করে, এই ধরনের মামলায় সিআইডি বা বিশেষ তদন্তকারী কমিটি গঠন করে তদন্ত করার চেয়ে সিবিআই তদন্ত বেশি বাঞ্ছনীয়। 

এদিকে সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তিনটি দায়ের হয় ১৬ এপ্রিল ও দু'টি ২২ তারিখে ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় দায়ের হয়। এর মধ্যে তারা চ্যানেলের করা একটি মামলায় আজ তোলা হয়েছে সুদীপ্তকে। তাঁর বিরুদ্ধে ৪২০, ৪০৬, ৫০৬, ১২০বি, ৩৪ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। 


এদিন উত্তর বিধাননগর থানা থেকে তিন জনকে বিধাননগর মহকুমা আদালতে আনা হয়। তিন জনকে ঘিরে থানা ও আদালত চত্ত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভ দেখান সারদার এজেন্ট ও আমানতকারীরা। কংগ্রেসের তরফেও বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। 

কৃষি থেকে শিক্ষা, সেবির নজরে সারদার ১০ সংস্থা
নয়াদিল্লি: তিন মাসের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরাতে বলে মঙ্গলবার রাতেই সারদা রিয়েলটি ইন্ডিয়া লিমিটেডকে নোটিশ দিয়েছে, রাত পোহাতেই সারদার অধীন আরও দশটি সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করল শেয়ারবাজার নিয়ামক সংস্থা সেবি৷ সাধারণ লোককে প্রলুব্ধ করে টাকা তুলে জালিয়াতি করার অভিযোগ রয়েছে সারদা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে৷ কয়েক দিন ফেরার থাকার পরে গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান সুদীপ্ত সেন সহ তিন জনকে কাশ্মীর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ তাঁদের কলকাতায় আনা হয়েছে৷ 

সেবির এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সুদীপ্ত সেনের অধীনে থাকা বেশ কয়েকটি সংস্থার ব্যাপারে তাঁরা তদন্ত শুরু করেছেন৷ সেবির কালেক্টিভ ইনভেস্টিভ স্কিমের (সিআইস) নিয়ম ভেঙে সেনের অধীন অন্তত দশটি সংস্থা টাকা তুলেছে বলে সন্দেহ৷ তাঁর সংস্থায় শীর্ষ পদাধিকারীদের অধীনস্থ সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও তদন্ত করা হবে৷ এই সংস্থাগুলি নানা ধরনের স্কিমে কয়েক হাজার কোটি টাকা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের থেকে তুলেছে৷ 

শুধু যে সিআইএস স্কিমের মাধ্যমেই টাকা তোলা হয়েছে তা নয়, চিটফান্ডের নামেও সংস্থাগুলি টাকা তুলে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে৷ সিআইএস স্কিমগুলি দেখভালের দায়িত্ব সেবির হলেও চিটফান্ড ও মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ফার্মগুলি রাজ্য সরকারের আওতায় পড়ে৷ ইতিমধ্যেই কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকে সারদা ও তার সংস্থাগুলির অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে৷ সেগুলি পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও বিভিন্ন নিয়ামকের কাছে পাঠিয়ে তাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে৷ সারদা গ্রুপের অধীন কৃষি, প্রকাশনা, বায়োগ্যাস, পর্যটন, অটোমোবাইল, নির্মাণ, শপিং মল, শিক্ষা ও রপ্তানি প্রভৃতি নিয়ে তদন্ত করা হবে৷ এই সব সংস্থার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ, মোটা টাকা রিটার্নের লোভ দেখিয়ে টাকা তোলা হয়েছে৷ ব্যক্তি বিশেষে কয়েক হাজার টাকা থেকে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত তুলেছে সংস্থাটি৷ 

তিম মাসের মধ্যে সমস্ত বিনিয়োগকারীকে টাকা পাঠানোর ব্যাপারে সারদার ডিরেক্টরদের নির্দেশ দিয়েছে সেবি৷ তবে অধীনস্থ সংস্থাগুলিতে ডিরেক্টর হিসাবে রাঁধুনিকে পর্যন্ত দেখানো হয়েছে৷ মূল পাণ্ডারা হয় ধৃত, না হয় পলাতক৷ 

শতধৌতেন

সম্প্রতি আর্থিক বিশেষজ্ঞ মহলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি তত্ত্ব মান্যতা পাচ্ছে৷ এই তত্ত্ব অনুসারে শুধু অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হারের বিশ্লেষণ যথেষ্ট নয়৷ সঙ্গে সঙ্গে দেখা দরকার সেই বৃদ্ধির প্রকৃতিকে৷ অর্থাত্, কোনও অর্থনীতিতে কী উপায়ে সম্পদ সৃষ্টি হচ্ছে৷ যদি প্রযুক্তি বা উদ্ভাবন হয় অর্থনৈতিক বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি, তবে সেই উপায়ে জাতীয় আয়ের বৃদ্ধি অর্থনীতির পক্ষে দীর্ঘময়াদে উপকারী৷ কিন্ত্ত যদি সেই আয় বৃদ্ধি ঘটে প্রাকৃতিক সম্পদ, অর্থাত্, জমি বা খনিজ সম্পদের অধিকারকে কাজে লাগিয়ে, তবে বোঝা যায় যে সেই উন্নয়নের কাঠামোর গোড়ায় গলদ থেকে গিয়েছে৷ রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক শ্রেণির সঙ্গে যোগসাজসকে কাজে লাগিয়ে মুষ্টিমেয় শিল্পপতির করিত্কর্মে তৈরি হচ্ছে সেই সম্পদ৷ অর্থাত্, নতুন রূপে লাইসেন্স পারমিট রাজের প্রত্যাবর্তন৷ যেহেতু লাইসেন্স পারমিট রাজ দুর্নীতির সঙ্গে প্রায় সমার্থক, অতএব ভারতের অর্থনীতিতে এখনও চলেছে দুর্নীতির বোলবোলাও৷ যার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ কয়লার ব্লক বন্টনে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ৷ টু জি স্পেকট্রাম বণ্টনে দুর্নীতির অভিযোগের ঝড় থিতিয়ে আসতে না আসতেই দুর্নীতির নতুন অভিযোগের মুখোমুখি ইউ পি এ সরকার৷ এই অভিযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রেক্ষিত অবশ্যই আছে৷ বিশেষত যখন লোকসভা নির্বাচন আগতপ্রায়৷ কিন্ত্ত বোধ হয় তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা সম্পদের বণ্টন ব্যবস্থায় মৌলিক ত্রুটিগুলির দিকে নজর দেওয়া৷ 

গত বছরের মার্চ মাসে প্রকাশিত সি এ জি প্রতিবেদনেই ধরা পড়েছিল সমস্যার রূপরেখা৷ সেই প্রতিবেদন অনুসারে ২০০৪ সাল থেকে কয়লার ব্লকের বণ্টনে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের জন্য কোষাগারে প্রায় ১.৮৪ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে৷ সি এ জি-র এই বক্তব্যকে বৈধতা দিয়েছে সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির তদন্ত৷ কমিটির মতে ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৮ সাল অবধি যাবতীয় কয়লার ব্লকের বণ্টন অননুমোদিত৷ আশা করা যায় ২০১০ সালে পাশ হওয়া খনি ও খনিজ পদার্থ নিয়ন্ত্রণ আইনের ফলে চালু হওয়া প্রতিযোগিতামূলক নিলাম এই সমস্যার কিছুটা সুরাহা করতে সফল হবে৷ কিন্ত্ত কয়লার বণ্টন সমস্যার একটি দিক মাত্র৷ সমস্যার মূল উত্স কয়লার মতো প্রাকৃতিক সম্পদের উপর সরকারি ক্ষেত্রের সম্পূর্ণ মালিকানা৷ যা শুরু হয়েছিল কয়লাখনির জাতীয়করণের আইনের মধ্য দিয়ে৷ এই একচেটিয়া অধিকারের জন্যই দেখা গিয়েছে কয়লার অভ্যন্তরীণ জোগানের ঘাটতি৷ অন্য দিকে সমান হারে বেড়েছে কয়লার আমদানি৷ শুধু কয়লা আমদানি করার জন্য ২০১১-২০১২ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় কোষাগার থেকে খরচ হয়েছে ১৭৪০ কোটি ডলার৷ স্মর্তব্য যে ভারতের বাণিজ্য খাতে ঘাটতির পরিমাণ যথেষ্ট উদ্বেগজনক৷ সেই ঘাটতির অন্যতম কারণ কয়লার বিপুল আমদানি৷ হিসেব করে দেখা গিয়েছে ভারতে কয়লার মোট চাহিদার এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি, অর্থাত্, প্রায় ১৬.৫ কোটি টন আমদানি করতে হয় বিদেশ থেকে৷ অথচ ভারতে প্রায় ভবিষ্যত্ ১০০ বছরের জন্য পর্যাপ্ত কয়লার ভাণ্ডার আছে৷ 

এই ঘাটতি কমাতে বিভিন্ন আমলে বিভিন্ন দলের সরকার কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই যে সাময়িক বন্দোবস্তের সাহায্য নিয়েছেন, তার ফলেই বেড়েছে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ৷ প্রাকৃতিক সম্পদের বণ্টন দুর্নীতির সঙ্গে সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ অতএব প্রয়োজন সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং যথোচিত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে প্রাকৃতিক সম্পদ তথা কয়লার প্রতিযোগিতামূলক নিলাম৷ যার ফলে কয়লাশিল্পের দক্ষতা ও উত্কর্ষ বাড়বে৷ সরকারি তহবিলে জমা হবে আরও রাজস্ব৷ যে রাজস্ব কয়লা খননের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করা যেতে পারে৷ 

এই নীতি অনুসারে না চললে দুর্নীতির প্রশ্নকে বরাবরের মতো নির্মূল করা প্রায় অসম্ভব৷

রাজ্যজুড়ে বেকারদের কাজের দাবিতে আজ মহাকরণ অভিযান করছে ডিওয়াইএফআই সহ আটটি বাম যুব সংগঠন। বেলা আড়াইটে নাগাদ কলেজ স্ট্রিট থেকে তাদের মিছিল শুরু হয়। মিছিল যাবে মহাকরণের উদ্দেশে।

বাম যুব সংগঠনগুলির অভিযোগ, বেকারদের চাকরির সুযোগ করে দিতে সরকার কার্যত কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না। তাদের আরও অভিযোগ, বেআইনিভাবে এবং অত্যন্ত কম বেতনের বিনিময়ে দলীয় কর্মীদের বিভিন্ন দফতরে গ্রুপ ডি পদে  নিয়োগ করছেন মন্ত্রীরা। কাজের দাবির পাশপাশি এসএফআই নেতা সুদীপ্ত গুপ্তর পুলিস হেফাজতে মৃত্যুর বিচারবিভাগীয় তদন্ত চাইবে তারা। আজকের কর্মসূচিতে যাতে কোনওভাবেই যুবদের তরফ থেকে কোনওরকম  অশান্তি না ছড়ায় তারজন্য ডিওয়াইএফআই সহ যুব নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন বামফ্রন্টের শীর্ষনেতারা। কোনওভাবেই নয়ই এপ্রিল যোজনা কমিশনের সামনে যে ঘটনা ঘটেছিল তার পুনরাবৃত্তি ঘটুক তা চাইছে না বামফ্রন্ট। 


সারদাকে সার্টিফিকেট ডালু মিয়ার, বিড়ম্বনায় কংগ্রেস
সারদাকে সার্টিফিকেট ডালু মিয়ার, বিড়ম্বনায় কংগ্রেস
মালদহ ও বারাসত: ভুঁইফোঁড় আমানত সংস্থাগুলির সঙ্গে রাজ্য সরকারের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে কংগ্রেসের বিদ্রোহে জল ঢেলে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আবু হাসেম খান চৌধুরীর একটি চিঠি৷ প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে লেখা সেই চিঠিতে সারদা গোষ্ঠীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মালদহের সাংসদ৷ ডালুবাবু নামে যার পরিচিতি৷ প্রথমে অবশ্য তিনিই সারদা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীকে৷ তিনি ছয় মাসের মধ্যে তাঁর ভোল বদলের পিছনে রহস্যের ইঙ্গিত মিলেছে৷ 

পরিস্থিতি তাঁদের পক্ষেও বেগতিক থাকায় তৃণমূল নেতারা সে ভাবে ডালুবাবুর নিন্দায় মুখর হয়ে উঠতে সতর্কতা গ্রহণ করেছেন৷ কেবল রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী এর পিছনে ব্যবসায়িক কারণ আছে বলে কটাক্ষ করেছেন৷ ২০১১-র সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রীকে লেখা একটি চিঠিতে সারদা গোষ্ঠীর মতো সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন গণি খানের ভাই৷ সে সময় তাতে ব্যাপক হইচই হয়েছিল৷ 

কিন্ত্ত ঠিক ছয় মাস পর ২০১২-তে প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে সেই একই সাংসদ সারদা গোষ্ঠী ও তাঁর মালিক সুদীপ্ত সেনকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন৷ রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভের মধ্যে ডালুবাবুর সেই চিঠি কংগ্রেসকে অস্বস্তিতে ফেলবে নিঃসন্দেহে৷ কেননা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী অধীর চৌধুরী, সবাই সারদা গোষ্ঠীর প্রতারণার বিরুদ্ধে সোচ্চার৷ প্রদীপবাবু বারুইপুরে আত্মঘাতী সারদা গোষ্ঠীর আমানতকারী উর্মিলা প্রামাণিকের বাড়ি গিয়ে বুধবার ওই প্রতারণার সিবিআই তদন্ত দাবি করেছেন৷ 

কিন্ত্ত দ্বিতীয় চিঠিতে ঠিক কী লিখেছিলেন মালদহের সাংসদ? চিঠির বিষয়েই লেখা রয়েছে সারদা রিয়েলিটি ইন্ডিয়া লিমিটেড সম্পর্কিত অভিযোগ প্রত্যাহার৷ তার পর ছত্রে ছত্রে তাঁর অভিযোগ প্রত্যাহারের পক্ষে সওয়াল করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী৷ তিনি লিখেছেন, 'ওই সংস্থা বা তার মালিক সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে পূর্বতন সঞ্চয়িতা গোষ্ঠীর কোনও সম্পর্ক নেই৷ আমার কাছে এ ব্যাপারে আগে ভুল তথ্য ছিল৷ সারদা রিয়েলিটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও সফল ব্যবসা করছে পশ্চিমবঙ্গে৷ ওরা সংবাদমাধ্যম ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করছে৷' 

তাঁর আরও সওয়াল ছিল সারদা গোষ্ঠী আদৌ চিট ফান্ড কিংবা মাইক্রোফিনান্স বা লগ্নি ব্যবসার সংস্থা নয়৷ ফলে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নজরদারিতে ওই সংস্থার থাকার কোনও প্রয়োজনই পড়ে না৷ চিঠিতে ডালুবাবু লিখেছিলেন, 'কোম্পানি আইনের সমস্ত নির্দেশিকা মেনে সারদা রিয়েলিটি কাজ করছে৷ কাজেই আমার আগের চিঠির অভিযোগ ওই সংস্থার উপর অর্থনৈতিক চাপ ফেলতে পারে এবং সারদা রিয়েলিটির ব্যবসার ভাবমূর্তিতে আঘাত হানতে পারে৷ 

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন, আগের অভিযোগ যে তিনি প্রত্যাহার করছেন, তা যেন সংশ্লিষ্ট সব মহলকে জানিয়ে দেওয়া হয়৷ এ ব্যাপারে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে এ দিন বার বার চেষ্টা করা হলেও ডালুবাবু ফোন ধরেননি৷ রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরেই বলছি কোতুয়ালি ভবন একটি লিমিটেড কোম্পানি৷ ডালুবাবুর চিঠি সে কথার সত্যতা প্রমাণ করল৷' রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্র 'বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাচ্ছি' বলে সংযত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন৷

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিগারেটে কর চাপিয়ে তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর এখন তুঙ্গে৷ মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন ভয়ঙ্কর, মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস মুখপাত্র রেণুকা চৌধুরী৷ এভাবে টাকা তোলা যে অসম্ভব, তা কোনও শিশুও বুঝবে, কটাক্ষ দীপা দাশমুন্সির৷
সারদাকাণ্ডে প্রতারিতদের টাকা ফেরাতে বুধবারই ৫০০ কোটি টাকার তহবিল তৈরির কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ আর সেই টাকা তুলতে তামাকজাত পণ্যের ওপর বাড়িয়েছেন কর৷ কিন্তু, পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষের কাছে একটি আবেদনও রেখেছেন৷ 
কিছু হবে না৷ আপনারা একটু বেশি বেশি করে সিগারেট খাবেন৷ তাহলে আমার টাকাটা উঠে আসবে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে৷ কংগ্রেস মুখপাত্র রেণুকা চৌধুরীর মন্তব্য, সকলেই জানেন ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক৷ তাই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আবেদন ভয়ঙ্কর৷ 
সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী দীপা দাশমুন্সির মন্তব্য, তামাকজাত পণ্যের ওপর কর বাড়িয়ে প্রতারিতদের টাকা ফেরানো যে সম্ভব নয়, তা কোনও শিশুও বুঝবে৷ 
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরই অর্থনীতিবিদদের একাংশ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, এই বিপুল ক্ষতির জন্য ৫০০ কোটির তহবিল কি আদৌ যথেষ্ট? কিন্তু, সেই তহবিল গড়তে মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষের কাছে যে আবেদন জানিয়েছেন, অর্থনীতির প্রশ্ন ছাপিয়ে এখন বড় হয়ে উঠেছে সেই বিতর্ক৷ 

http://www.abpananda.newsbullet.in/national/60-more/36042-2013-04-25-10-37-33


নয়াদিল্লি: ভুঁইফোঁড় আর্থিক সংস্থা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি যখন উত্তাল তখন জাতীয় রাজধানীতে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করল তৃণমূল কংগ্রেস৷ সোমবার সংসদের গাঁধী মূর্তির পাদদেশে দিল্লিতে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রকে নিগ্রহের ঘটনার  প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদরা৷ মঙ্গলবার ওই একই জায়গায় কেন্দ্রের আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা৷ তৃণমূলের লোকসভার নেতা সুদীপ বন্দ্যেপাধ্যায়ের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে কেন্দ্র৷


তৃণমূলের এদিনের বিক্ষোভকে অবশ্য কটাক্ষ করেছেন মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস সাংসদ মান্নান হোসেন৷ তাঁর দাবি, চিটফান্ডকাণ্ড থেকে নজর ঘোরাতেই তৃণমূলের এই বিক্ষোভ৷ 
সম্প্রতি বিহারকে বারো হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ কিন্তু, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে বার বার দাবি করা সত্ত্বেও বাংলার ভাগ্যে এখনও শিকে ছেড়েনি৷ এই পরিস্থিতিতে, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগকে জাতীয় স্তরে প্রতিষ্ঠিত করতে সংসদ চত্বর ও সংসদের ভিতরে তৃণমূল সুর চড়াচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগে ২৬ এপ্রিল কলেজ স্কোয়্যার থেকে রানি রাসমনি অ্যাভিনিউ পর্যন্ত মিছিল করবে তৃণমূল৷ 

http://www.abpananda.newsbullet.in/national/60-more/35988-2013-04-23-15-55-22


দিল্লিতে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রকে নিগ্রহের ঘটনার পর কার বিমানে রাজধানী থেকে কলকাতায় ফিরেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে চিঠি দিয়ে তা জানতে চাইলেন বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র৷


৯ এপ্রিল যোজনা কমিশনের দফতরের সামনে নিগ্রহের শিকার হন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র৷ তার পরের দিন অর্থাত্‍ ১০ তারিখ কলকাতায় ফেরেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে চিঠি দিয়ে বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র জানতে চাইলেন, ওই দিন কার চার্টার্ড বিমানে দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী? বিমান কে কে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে? এর জন্য কত টাকাই বা ব্যয় হয়েছে? বিরোধী দলনেতার যুক্তি, মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বিমানে ফেরা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে৷ বিষয়টি জনস্বার্থের৷ 
অসুস্থ অবস্থায় দিল্লি থেকে ফেরেন মুখ্যমন্ত্রী৷ কলকাতা বিমানবন্দরে চিকিত্সক এবং অ্যাম্বুল্যান্স উপস্থিত ছিল কি না, চিঠিতে তাও জানতে চেয়েছেন বিরোধী দলনেতা৷ 
বিরোধী দলনেতার চিঠির প্রেক্ষিতে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিরোধী দলনেতার জানা উচিত, নেতাই, নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুরের সময় তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে অনেক চিঠি দেওয়া হয়েছিল৷ কোনও চিঠিরই উত্তর আসেনি৷ সেই লজ্জায় মন্ত্রীদের চিঠি না দিয়ে এখন মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবকে চিঠি লিখছেন বিরোধী দলনেতা৷ এই চিঠি লিখে দলের অভিযুক্তদের বাঁচানোর জন্য সারদাকাণ্ডের মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে চাইছেন৷ 
নিগ্রহকাণ্ডের পর দিল্লিতে হাসপাতালে ভর্তি হন অমিত মিত্র৷ হাসপাতালে গিয়েছিলেন রাজ্যের আরেক মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ও৷ পরের দিন দুপুরে মুকুল রায়কে সঙ্গে নিয়ে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে মুখ্যমন্ত্রী কলকাতায় ফেরেন বলে সূত্রের খবর৷ এরপরই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়৷ সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিমানে ফেরাকে কেন্দ্র করে শুধুমাত্র বিরোধীই নয়, প্রশ্ন ওঠে তৃণমূলের অন্দরেও৷ এবার সরাসরি রাজ্য সরকারকে সেই প্রশ্ন করলেন বিরোধী দলনেতা৷ রাজ্য সরকারের তরফে কী জবাব আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল৷ 

http://www.abpananda.newsbullet.in/state/34-more/36051-2013-04-25-14-19-18


রাতে নিউ টাউন থানায়
পুলিশের কাছে সুদীপ্তই খোঁজ নিলেন কলকাতার
শ্রীনগর বিমানবন্দরে বুধবার বিকেলে তাঁর ভাবলেশহীন মুখ দেখে বোঝার উপায় ছিল না, এ ক'দিন এত ঝড়ঝাপটা গিয়েছে তাঁর উপর দিয়ে! আর রাত এগারোটা নাগাদ কলকাতার নিউ টাউন থানায় যখন তাঁকে প্রিজন ভ্যান থেকে নামাচ্ছে পুলিশ, তখনও তিনি নির্বিকার। দীর্ঘ যাত্রার ধকলে হয়তো একটু ক্লান্ত। কিন্তু সারদা কর্ণধার সুদীপ্ত সেনের চোখেমুখে ভেঙে পড়ার লেশমাত্র চিহ্ন নেই। 
বিধানগর কমিশনারেট এবং কলকাতা পুলিশের যে অফিসারেরা এ দিন কাশ্মীর থেকে নিয়ে এলেন দুই সঙ্গী-সহ ধৃত সুদীপ্তকে, তাঁরাও সারদা কর্ণধারের এই আগাগোড়া নির্লিপ্ত চেহারা দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছেন। শ্রীনগর বিমানবন্দরে বসে থাকার সময়েও ছায়াসঙ্গিনী দেবযানী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মাঝেমধ্যে কথা বলছিলেন নীল-লাল-সাদা-কালো ঝলমলে ফুলহাতা সোয়েটার পরা সুদীপ্ত। দু'জনের মাঝের চেয়ারে বসা সংস্থার আর এক ধৃত ডিরেক্টর (যিনি পালানোর নাটকের সময়টায় গাড়িচালকও বটে) অরবিন্দ চৌহানকে টপকেই চলছিল সারদা অফিসের 'সেন স্যার' আর 'ম্যাডাম'-এর কথোপকথন। পুলিশের দেওয়া চা-স্যান্ডউইচও বিনা আপত্তিতে খেয়েছেন তাঁরা। দেবযানীর পরনে ছিল লাল ফুলের কাজ করা সাদা সালোয়ার-কামিজ। গায়ে ফুলকাটা চাদর। কালো জ্যাকেট পরা অরবিন্দকেই একমাত্র কিছুটা বিধ্বস্ত মনে হচ্ছিল। শুধু কারও সঙ্গে চোখাচোখি হলে ঝটপট রুমালে মুখ লুকোচ্ছিলেন সারদা কর্ণধার। 
ফেরার পথে পুলিশ অফিসারেরা টুকটাক প্রশ্ন করেন সুদীপ্তকে। সুদীপ্ত মুখ খোলেন দিল্লি আসার পর। তিনি ঘুরিয়ে পুলিশের কাছেই জানতে চান কলকাতার হাল হকিকত। দেবযানী অবশ্য মুখ খোলেননি। যে কোনও প্রশ্নেই তাঁর জবাব ছিল, "সবার সামনে কিছু বলব না। যা বলার পরে বলব।" পুলিশের অনুমান, সুদীপ্তর আড়ালে দেবযানী হয়তো কিছু বলতে চান। ঘটনাচক্রে, দেবযানীকে দিল্লিতে আটকে রাখা হয়েছিল বলে এ দিনই থানায় অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার।
বুধবার রাতে কলকাতায় আনার পর সুদীপ্ত। সকালে গান্ডেরবালের আদালতে
নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দেবযানীকে। ছবি: বিশ্বনাথ বণিক ও পিটিআই
মঙ্গলবার কাশ্মীরের সোনমার্গের একটি হোটেল থেকে সুদীপ্ত, দেবযানী এবং অরবিন্দকে গ্রেফতার করে কাশ্মীর পুলিশ। গ্রেফতারের খবর পেয়ে গতকালই সেখানে পৌঁছে গিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ পুলিশ দল। ছ'জনের ওই দলে রয়েছেন দুই মহিলা। এ দিন বেলা ১২টা নাগাদ ধৃত তিন জনকে গান্ডেরবালের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হয়। ভিন্ রাজ্যের অভিযুক্তদের দেখতে আদালত চত্বরে বেশ ভিড়ও ছিল। কড়া পাহারায় একে একে প্রিজন ভ্যান থেকে নামানো হয় সুদীপ্ত, দেবযানী ও অরবিন্দকে। সারদা কর্ণধারের মুখে রুমাল বাঁধা ছিল। দেবযানীর মুখ ঢাকা ছিল না, তবে মাথায় ঘোমটা ছিল। 
ধৃতদের কলকাতায় আনতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় এ রাজ্যের পুলিশ। ম্যাজিস্ট্রেট পারভেজ হুসেন কচরু চার দিনের ট্রানজিট রিম্যান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশ সূত্রের খবর, আদালতে তোলার আগে ধৃতদের শারীরিক পরীক্ষা হয়। স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, তাঁরা সুস্থ। ট্রানজিট রিম্যান্ডে কলকাতায় নিয়ে যেতে কোনও অসুবিধা নেই। ইতিমধ্যে সুদীপ্তদের ব্যবহৃত স্করপিও গাড়িটি (ডব্লিউবি ২২ইউ ৬৭৪২) বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ।
সন্ধে সাড়ে ছ'টা নাগাদ গো-এয়ারের বিমানে ধৃতদের নিয়ে শ্রীনগর থেকে দিল্লি পৌঁছয় পুলিশের দলটি। দিল্লি বিমানবন্দরে তিন জনকে আবার চা দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দেবযানী সম্ভবত নিয়মিত কোনও ওষুধ খান। ওই সময়ের মধ্যে একাধিক বার তাঁকে ওষুধ খেতে দেখা গিয়েছে। কী ওষুধ, জানা যায়নি। দিল্লি-কলকাতা স্পাইসজেটের উড়ানের ৯টি টিকিট বুক করেছিল পুলিশ। কলকাতা পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, প্রথমে বিমানের সামনের দিকের আসন নেওয়া হয়েছিল। পরে পিছনের দিকের আসনে চলে যাওয়া হয়। ওই বিমানের এক যাত্রী জানান, নীল-ক্রিম ডোরা দেওয়া শার্ট ও জিন্স পরা সুদীপ্তকে (তত ক্ষণে সোয়েটার খুলে ফেলেছেন) বিমানে তোলা হয় পিছনের দরজা দিয়ে। সুদীপ্তকে তাঁর নাম ধরে ডাকা হয়েছিল বলেই তিনি তাঁকে চিনতে পারেন বলে ওই ব্যক্তির দাবি। সুদীপ্ত বসেছিলেন ২৮ নম্বর সারিতে, প্যাসেজের পাশের আসনে। এক বারও আসন ছেড়ে ওঠেননি তিনি। 
রাত সাড়ে দশটায় কলকাতায় নামে দিল্লির বিমান। নতুন টার্মিনালের বাইরে কংগ্রেসের পতাকা নিয়ে আগে থেকেই হাজির ছিলেন এক দল বিক্ষোভকারী। রাত ১০টা ৩৯-এ এক নম্বর গেট দিয়ে বার করার পর বিক্ষোভকারীদের নাগাল এড়িয়ে তিন জনকে কর্ডন করে প্রিজন ভ্যানে তুলে দেয় পুলিশ। বিমানবন্দর থেকেই বিধাননগর পুলিশের সেই ভ্যানের পিছু নেয় সংবাদমাধ্যম। রাত ১১টা নাগাদ ভ্যান পৌঁছয় নিউ টাউন থানায়। অরবিন্দকে নিয়ে যাওয়া হয় বিধাননগরের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায়। নিউ টাউন থানায় দু'টি আলাদা ঘরে রাখা হয় সুদীপ্ত ও দেবযানীকে। দেওয়া হয় রাতের খাবার, ভাত-ডাল-সব্জি। বিধাননগরের গোয়েন্দাপ্রধান অর্ণব ঘোষের নেতৃত্বে অফিসারেরা দু'জনের সঙ্গেই প্রাথমিক কিছু কথাবার্তা বলেন। এখনও পুরোদস্তুর জেরা শুরু হয়নি। আজ, বৃহস্পতিবার ডাক্তারি পরীক্ষার পর ধৃতদের বিধাননগরের এসিজেএম আদালতে তোলার কথা রয়েছে।

পুরনো খবর: 
http://www.anandabazar.com/25bus1.html

শক্ত আইন তৈরি করেছে ত্রিপুরা, পারেনি বাংলা
শ্চিমবঙ্গে সম্ভব না হলেও ত্রিপুরায় হয়েছে। নিজেদের রাজ্যে আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষার জন্য অনেক আগেই বিশেষ আইন প্রণয়ন করেছে ত্রিপুরার বামফ্রন্ট সরকার। আর তার পরেই সেখান থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে বেশ কিছু ভুঁইফোঁড় আর্থিক সংস্থা। ত্রিপুরায় কোনও সংস্থার আমানত সংগ্রহে নামার ওপরেও প্রচুর বিধি নিষেধ রয়েছে, যার ফলে প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে কারও পক্ষে টাকা তুলে চম্পট দেওয়া কঠিন। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, ত্রিপুরা পারলেও পশ্চিমবঙ্গের কোনও সরকার কেন এমন পদক্ষেপ করেনি?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ভুঁইফোঁড় অর্থলগ্নি সংস্থার বাড়বাড়ন্তের জন্য কেন্দ্রকে দায়ী করে থাকেন। আজ তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "এ ধরনের সংস্থাগুলিকে নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রের উচিত সারা দেশে একটি অভিন্ন আইন তৈরি করা। বহু দিন ধরেই আমরা এ দাবি করে আসছি।" অর্থমন্ত্রী বাদল চৌধুরী আরও বলেন, "তথাকথিত চিট ফান্ডগুলির ব্যবসা বেড়ে উঠছে কেন্দ্রীয় সরকারের পরোক্ষ মদতে। আরবিআই বা সেবি-র আইনের ফাঁক দিয়ে ভুঁইফোঁড় সংস্থাগুলি জালিয়াতি করছে। অথচ সব জেনেও কেন্দ্র এদের নিয়ন্ত্রণের জন্য উপযুক্ত আইন তৈরি করছে না।" বাদলবাবু বলেন, ভুঁইফোঁড় অর্থলগ্নি সংস্থাগুলির কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণে ত্রিপুরা সরকার সীমাবদ্ধ ক্ষমতার মধ্যেই ২০০০ সালে একটা শক্ত আইন চালু করেছে। 
এটির নাম, 'দ্য ত্রিপুরা প্রোটেকশন অফ ইন্টারেস্ট অফ ডিপোজিটার্স ইন ফিনান্সিয়াল এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট'। 
২০১১ সালে আইনটি সংশোধনও করা হয়েছে। গজিয়ে ওঠা অর্থলগ্নি সংস্থাগুলির ওপরে নজরদারির বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়েছে, যার ফলে প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে আমানত সংগ্রহ করা বেশ কঠিন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, "এখন নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে। এ জন্য দু'এক দিন আগে অর্থমন্ত্রী এবং অর্থসচিবের সঙ্গে আমার একপ্রস্ত কথা হয়েছে।"
শুধু কড়া আইন প্রণয়ন ও নজরদারিই নয়, অনিয়মের অভিযোগ আসার পরে বেশ কিছ সংস্থার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য সরকার। অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারি পদক্ষেপের পরে এ পর্যন্ত অন্তত ২০টি ভুঁইফোড় লগ্নি সংস্থা ত্রিপুরা থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। বাদলবাবুর আক্ষেপ, "অনিয়ম হচ্ছে জেনেও নির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলে রাজ্য সরকার কোনও ব্যবস্থাই নিতে পারে না। কারণ এগুলির অধিকাংশই অন্য রাজ্য থেকে কোম্পানি আইনে লাইসেন্সপ্রাপ্ত। কোনও কোনও ক্ষেত্রে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বা সেবি-আইআরডিএ-এর মতো কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থার অনুমোদনও রয়েছে তাদের।" ত্রিপুরায় কোনও সংস্থাকে মানুষের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করতে গেলে রাজ্যের ডাইরেক্টরেট অফ স্মল সেভিংস, গ্রুপ ইনসিয়োরেন্স অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ফিনান্সেস অথবা জেলা প্রশাসনের স্থানীয় অফিসে জানানোটা বাধ্যতামূলক। 
সংস্থাগুলির কাজকর্মের বিবরণও এ সব অফিসে প্রতি মাসে জমা দিতে হয়। অসঙ্গতি দেখলে কোম্পানিকে রাজ্য সরকার সতর্ক করে দেয়। শর্ত পূরণ না করলে জরিমানা সুযোগ রয়েছে ২০০০ সালের আইন অনুসারে। তারই বলে ২০১২-২০১৩ অর্থবর্ষে প্রায় ২৭টি অর্থলগ্নি সংস্থার কাছ থেকে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করেছে অর্থ দফতর। 
অর্থমন্ত্রী বলেন, জন সচেতনতা বাড়ানোর জন্য প্রচুর বিজ্ঞাপনও দেয় সরকার। কিন্তু তাও মানুষ ঠকছেন। এর জন্য লোভ সংবরণ করতে হবে। লোভের টোপ দিয়েই প্রতারণার জাল পাতে অসৎ সংস্থাগুলি।
http://www.anandabazar.com/25bus3.html

সিবিআই তদন্ত চাইলেন গগৈ, চাপ বামেদেরও
সারদা-কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উপরে চাপ আরও বাড়ল। এক দিকে, কংগ্রেস-শাসিত অসমের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ ঘোষণা করেছেন, তাঁর রাজ্যে সারদা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত অভিযোগের সিবিআই তদন্ত হবে। অন্য দিকে, মমতার নিজের রাজ্যে বিরোধী বামেদের সন্দেহ, সারদা গোষ্ঠীর কর্ণধার সুদীপ্ত সেন সিবিআই-কে যে চিঠি দিয়েছেন, তা আসলে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বই লিখিয়েছেন। ফলে সারদা-কাণ্ডের তদন্ত রাজ্য করলে তা নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য হবে না বলেই বামেদের দাবি। তাঁরা সিবিআই-সহ কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে দিয়ে তদন্ত করানোর কথা বলেছেন। 
সিবিআই ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার চাইলে সারদা-সহ ভুঁইফোঁড় অর্থলগ্নি সংস্থাগুলির কাজকর্ম নিয়ে তদন্ত করতে পারে তারা। পশ্চিমবঙ্গের আগে সেই সুপারিশই করেছে অসম। গগৈ বলেছেন, "রাজ্যে চিটফান্ডগুলি যে ভাবে মানুষ ঠকাচ্ছে, তা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে সিবিআই-কে তদন্তভার নিতে বলছি।" 
এই বিষয়ে বুধবার স্বরাষ্ট্র দফতরের কর্তা ও অসম পুলিশের ডিজি জয়ন্তনারায়ণ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন গগৈ। এই সংক্রান্ত তদন্তের স্বার্থে ডিজি-কে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও নির্দেশ দিয়েছেন গগৈ। জয়ন্তবাবু বলেন, "সুদীপ্ত সেনকে জেরা করার প্রয়োজন হলে আমরা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছে সাহায্য চাইব।" 
গগৈয়ের মতে, শুধু মানুষের টাকা লোপাট করা নয়, অসমের রাজনীতিতেও নাক গলাতে শুরু করেছিল ওই সংস্থাগুলি। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী নেতারা সারদার মতো সংস্থাগুলিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছিলেন। তবে কংগ্রেসের বেশ কিছু নেতা-মন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়েই অসমে সুদীপ্তবাবুর ব্যবসা ফুলে-ফেঁপে উঠেছিল বলেও অভিযোগ। কিন্তু তা সত্ত্বেও গগৈ যে ভাবে সিবিআই-কে তদন্তের দায়িত্ব দিলেন, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকারও কেন তা করবে না, সেই প্রশ্ন উঠেছে।
রাজ্যে চিটফান্ডগুলি যে ভাবে মানুষ ঠকাচ্ছে, তা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে সিবিআই-কে তদন্তভার নিতে বলছি।
তরুণ গগৈ মুখ্যমন্ত্রী,
বস্তুত, সারদা-কাণ্ডে শাসক তৃণমূলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীর নাম জড়িয়েছে, তাতে রাজ্য সরকারের নিজস্ব তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে বাম ও কংগ্রেস শিবির। প্রদেশ কংগ্রেস আগেই সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা কংগ্রেস সাংসদ দীপা দাশমুন্সি আজ বলেন, "রাজ্য সরকারের তদন্ত হলে সবটাই নিজেদের হাতে থাকবে। রেখে-ঢেকে, অন্যদের ফাঁসিয়ে রিপোর্ট তৈরি করা যাবে!" দীপা অবশ্য মমতার সরকারকে 'সাবধান' করে দিয়ে বলেছেন, রাজ্য না-চাইলেও সেবি নিজেই সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করতে পারে। সিবিআই তদন্ত চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে যে জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়েছে। ঘটনাচক্রে আজ, বৃহস্পতিবারই তার শুনানি হওয়ার কথা। 
অসমের মুখ্যমন্ত্রীও মনে করছেন, শুধু তাঁর রাজ্যে সিবিআই তদন্ত করে সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হবে না। তাঁর যুক্তি, পড়শি রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ওই ধরনের সংস্থা সক্রিয় থাকলে অসমে সমস্যা নির্মূল করা যাবে না। এই ব্যাপারে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের কাছেও রিপোর্ট জমা দিয়েছেন তিনি। 
সুর চড়িয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বাম নেতারাও। বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র এ দিন বলেছেন, "স্বাধীনতা-উত্তর কালে এটা পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম কেলেঙ্কারি। শাসক দল ও সরকার তাতে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। কেন্দ্রীয় ও অন্যান্য রাজ্য সরকারকে যৌথ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া উচিত। সিবিআই-কে দরকার। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, সেবি, এসএফআইও-র মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকেও যুক্ত করা প্রয়োজন। রাজ্য সরকারের তদন্ত বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না!"
সিবিআই-কে লেখা সুদীপ্তবাবুর চিঠির যে অংশ সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তাতে এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের দু'জন সাংসদের দিকেই আঙুল উঠেছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী-সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের মদতেই সারদার রমরমা হয়েছিল বলে বামেদের অভিযোগ। সূর্যবাবুর কথায়, "এটা পরিষ্কার যে, এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে যে ব্যক্তি যুক্ত, তিনি সততার প্রতীকের (মুখ্যমন্ত্রী) নাম ব্যবহার করেছেন। যে নেতা বা সাংসদদের নাম আসছে, তাঁরাও সেই প্রতীকই কাজে লাগিয়েছেন! মুখ্যমন্ত্রীর 'কাছের লোক' হিসেবেই কিছু ব্যক্তির কথা চিঠিতে বলা হয়েছে। অভিযুক্ত প্রতারক ও শাসক দলের যোগাযোগ রয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।" 
সূর্যবাবুর অভিযোগ, পারিপার্শ্বিক ঘটনায় মনে হচ্ছে, তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ওই চিঠি লেখার সময় উপস্থিত ছিলেন। নিজেরা বাঁচার জন্য তৃণমূল সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ও সারদা গোষ্ঠীর মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে শাসক দলের কয়েক জনকে বলির পাঁঠা করা হচ্ছে কি না, তারও তদন্ত চেয়েছেন বিরোধী দলনেতা। তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের নাম জড়াচ্ছে বলে জনহিতার্থে প্রয়োজনে যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) কথাও বলেছেন তিনি।
তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য পাল্টা বলছেন, এক জন প্রতারকের চিঠিকে এত গুরুত্ব দেওয়ার কী আছে? সূর্যবাবুর পাল্টা বক্তব্য, প্রতারক বা অভিযুক্তও ১৬১ বা ১৬৪ ধারা অনুযায়ী কিছু জানাতে চাইতে পারেন। চিঠিটি তিনি লিখেছেন, না তাঁকে দিয়ে লেখানো হয়েছে, এ সব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দরকার কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে। 
তবে সর্বভারতীয় স্তরেই যখন তৃণমূলের উপরে চাপ বাড়ছে, তখন জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ মাথায় রেখেই মমতার বিরুদ্ধে বিশেষ আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিতে চাননি বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দলের মুখপাত্র প্রকাশ জাভড়েকর শুধু এটুকুই বলেছেন, "আমরা চাই, গোটা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। আর এই ঘটনার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত লাখো লোকের পয়সাও ফেরত দিক সরকার।" বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ সিবিআই তদন্ত দাবি করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গে যেমন সারদার মতো সংস্থার সঙ্গে যোগসাজশ নিয়ে শাসক-বিরোধী চাপানউতোর চলছে, অসমের রাজনীতিও তার ব্যতিক্রম নয়। বিভিন্ন শহরে সারদা গোষ্ঠীর দফতরে ভাঙচুর চলছে। অভিযোগ উঠেছে, সুদীপ্তবাবুর সঙ্গে রাজ্যের ক্ষমতাশালী মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি শঙ্কর বরুয়ার আঁতাঁত ছিল। হিমন্তের স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি টিভি চ্যানেলের জন্য টাকা চেয়ে সুদীপ্তবাবুকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেই চিঠি এবং হিমন্ত-শঙ্করের সঙ্গে সুদীপ্তবাবুর কথাবার্তার রেকর্ডও ফাঁস হয়ে গিয়েছে। হিমন্ত অবশ্য এই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গগৈ চাইছেন, সিবিআই তদন্তে সব তথ্যই উঠে আসুক। সিবিআই তদন্তের মতো আরও একটি বিষয়ে মমতা সরকারের চেয়ে এগিয়ে গিয়েছেন গগৈ। আমানত-কারীদের স্বার্থ রক্ষায় মার্চেই 'দ্য অসম প্রোটেকশন অফ ইন্টারেস্ট অফ ডিপোজিটর্স ইন ফিনান্সিয়াল এস্টাব্লিশমেন্টস' সংশোধনী বিল বিধানসভায় পাশ হয়ে গিয়েছে। এই আইন কার্যকর হলে কোনও লগ্নিকারী সংস্থা প্রতারণা করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। দোষীদের ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ও ১০ বছর অবধি কারাদণ্ড হবে।
http://www.anandabazar.com/25bus4.html

কর্মী থেকে কর্ণধার, সুদীপ্তর উত্থান যেন সিনেমা
য়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে মালিকের মাথায় গুলি। একদা হুকুমবর্দার হয়ে উঠলেন সর্বময় কর্তা। শঠতা-ক্রুরতায় জুড়ি মেলা ভার, দাপটে সকলে থরহরি কম্পমান। সত্তর-আশির দশকের আদর্শ বলিউডি চিত্রনাট্য! 
সারদা-সাম্রাজ্য বিস্তারের নেপথ্যে এমন ফিল্মি ছায়াই দেখছেন অনেকে। চোদ্দো বছর আগে দিনে-দুপুরে মাথায় গুলি খেয়ে খুন হয়েছিলেন সারদা গার্ডেন সংস্থার মালিক বিশ্বনাথ অধিকারী। তাঁর জমি-বাড়ি-কারবার হাতের মুঠোয় নিয়ে নেন সংস্থার অফিস ম্যানেজার সুদীপ্ত সেন। সেটাই ফুলে-ফেঁপে হয়ে উঠেছে আজকের সারদা গোষ্ঠী। রুপোলি পর্দায় যে ভাবে দিনের পর দিন সাঙ্গোপাঙ্গদের পাশে নিয়ে প্রতিপত্তি বিস্তার করে গিয়েছেন অমরীশ পুরি-প্রেম চোপড়া-শক্তি কপূরেরা, প্রায় একই কায়দায় সুদীপ্ত সেনও তাঁর ব্যবসার পরিধি ও বহর বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 
কীসের ভিত্তিতে?
ওই সময়ে যাঁরা সুদীপ্তকে কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁদের অনেকের বক্তব্য: দক্ষিণ শহরতলির ডায়মন্ড হারবার রোড লাগোয়া পূর্ব-বিষ্ণুপুর পঞ্চায়েত-এলাকার তিনটি মৌজার প্রায় হাজার বিঘে জমি কার্যত জবরদস্তি গরিব চাষিদের কাছ থেকে জলের দরে কিনে নিয়েছিল সারদা গোষ্ঠী। বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ: এ জন্য সুদীপ্ত গড়েছিলেন একটি পুরোদস্তুর গুন্ডাবাহিনী, যার নেতৃত্বে ছিল পীযূষ নস্কর ও প্রশান্ত নস্কর একদা বিষ্ণুপুর-ধর্মতলা রুটের বেসরকারি বাসের দুই খালাসি। 'সেন সাহেবের' দলে ভিড়ে তারাই হয়ে ওঠে জমি দখলের পাণ্ডা। অভিযোগ, সুদীপ্তের কাজ হাসিল করতে লোকজন জুটিয়ে নেমে পড়ে দুই নস্কর। বাগি, উত্তর গৌরীপুর ও ভাসা মৌজায় প্রায় হাজার বিঘে সারদার কব্জায় আসে।
বিষ্ণুপুরের জমিতে গজিয়ে ওঠা সারদার আবাসন প্রকল্প। —নিজস্ব চিত্র
এবং ধামাচাপা পড়ে যায় বিশ্বনাথ অধিকারী খুনের মামলা। 
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর: ১৯৯৯-এর ২৯ জানুয়ারির সেই সকালে সারদা গার্ডেনের পাশে অন্য একটি জমি দেখতে গিয়েছিলেন বিশ্বনাথবাবু। সাড়ে এগারোটা নাগাদ সেখানেই তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়। জমি দেখানোর 'টোপ' দিয়েই তাঁকে ফাঁদে ফেলা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রের ইঙ্গিত। পুলিশ 'অজ্ঞাতপরিচয়' আততায়ীদের নামে মামলা রুজু করে। প্রথমে কেউ গ্রেফতার হয়নি। শেষমেশ হাইকোর্টের নির্দেশে সিআইডি তদন্তে নেমে তিন জনকে ধরে। ২০০৭ পর্যন্ত জেল খেটে তারা জামিনে খালাস হয়ে যায়। মামলা কার্যত চলে যায় ঠান্ডা ঘরে। 
তবে সারদা-কাণ্ডের পরে উদ্ভুত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সেটিকে জিইয়ে তোলার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতর-সূত্রের ইঙ্গিত, বিশ্বনাথ-হত্যায় এ বার সুদীপ্তবাবুকে অভিযুক্ত করে মামলাটি ফের কোর্টে তোলা যায় কিনা, সে ব্যাপারে ভাবনা-চিন্তা শুরু হয়েছে। কিন্তু উত্থানপর্বে এ সবের কোনও কিছুই কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়নি সুদীপ্তের সামনে। বরং প্রভাব বাড়তে থাকে। তখন বাম আমল। কোম্পানির রবরবা দেখে স্থানীয় বেশ কিছু 'দাপুটে' সিপিএম নেতার আনাগোনা শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, রোজ সন্ধের পরে বিষ্ণুপুরের ওই সব নেতার আড্ডা হয়ে উঠত উঠত সারদা গার্ডেন। সঙ্গে আসতেন পুলিশের উঁচুদরের কিছু অফিসার। কোম্পানির কর্তাদের সঙ্গে নেতা-পুলিশের গা ঘষাঘষি এলাকাবাসীর নজর এড়ায়নি। অতএব বেআইনি দখলদারির বিরুদ্ধে কোনও চাষি পুলিশ-প্রশাসনের কাছে নালিশ জানানোরও সাহস পাননি। 
ঠিক সিনেমায় যেমন হয়! 
সারদা গার্ডেনের কিছু দূরে এক চায়ের দোকানের মালিক বলেন, "ভাসা মৌজায় আমার তিন বিঘে জমি ছিল। ২০০১-এ সারদার গুন্ডারা তা হাতিয়ে নিল। তিন বিঘের দাম পেলাম সাকুল্যে ৯০ হাজার টাকা। বাজারদর তখন কাঠাপিছু প্রতি তিন লাখ।" তিন বিঘে মানে ৬০ কাঠা। অর্থাৎ, ১ কোটি ৮০ লাখের জমির বদলে ৯০ হাজার! "ওদের সঙ্গে তো এঁটে উঠতে পারতাম না। তাই ওতেই রাজি হয়ে গেলাম। না-হলে কিছুই পেতাম না। উপরন্তু খুন হয়ে যেতে পারতাম।" ভরদুপুরে খরিদ্দার সামলানোর ফাঁকে মাথা চাপড়ালেন প্রৌঢ়। 
ওঁরই মতো অবস্থা এলাকার বহু চাষির। সারদা গার্ডেনের চোখরাঙানির সামনে নিজেদের রুজি-রুটির অবলম্বন যাঁরা নামমাত্র মূল্যে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। ২০০২-এর পরে বিষ্ণুপুরে জমির দর ক্রমশ বাড়তে থাকে। তত দিনে হাজার বিঘে সুদীপ্তের পকেটে। এখন তাঁর কর্মীদেরই কেউ কেউ বলছেন, ওই সময়ে সারদার জমি-খরিদ কারবারে কালো টাকা ঢেলেছিলেন স্থানীয় কিছু নেতা ও পুলিশের হোমড়া-চোমড়া। 
বস্তুত সেই সুবাদে নিজে এক পয়সাও লগ্নি না-করে সুদীপ্ত সেন হাজার বিঘে জমির মালিক হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ। তাঁর সংস্থা ওখানে ফ্ল্যাট বানিয়ে বেচতে শুরু করে। যেগুলোর বৈধতা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। সারদা গার্ডেনের এক কর্তার কথায়, "অধিকাংশ জমি গায়ের জোরে নেওয়া। কোনও কাগজপত্র নেই। তাই খদ্দেরদের দলিল দেওয়া যায়নি। ওই সব সম্পত্তির নামপত্তনও করা যায়নি। কোম্পানি ক্রেতাদের শুধু একটা করে সার্টিফিকেট দিয়েছে।" 
অভিযোগ রয়েছে আরও। যেমন একই ফ্ল্যাট একাধিক ক্রেতাকে বিক্রি, ন্যূনতম পরিষেবার ব্যবস্থা না-রাখা, আবাসিকদের উপরে জুলুমবাজি ইত্যাদি। সারদা গার্ডেনের ওই কর্তা বলেন, "অনেক জায়গায় পানীয় জল বা নিকাশির বন্দোবস্ত করা হয়নি। তার উপরে হরেক উৎসবে পীযূষ-প্রশান্তের দলবলের চাঁদার উৎপাত। অনেকে ফ্ল্যাট বেচে চলে যেতে চেয়েও পারেননি।" কেন? ওঁর অভিযোগ: পীযূষ-প্রশান্তের 'অনুমতি' ছাড়া বাইরের কাউকে ফ্ল্যাট বিক্রির অধিকার বাসিন্দাদের ছিল না। "তাই অনেকে বাজারদরে কেনা ফ্ল্যাট ওদের কাছেই জলের দরে বিক্রি করে পাততাড়ি গুটিয়েছেন।" জানাচ্ছেন তিনি। পীযূষ-প্রশান্তের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে লাভ হয়নি। কয়েক দিন হল নস্কর জুটি এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানাচ্ছেন বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রের খবর, এ ভাবে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করে ২০০৬-এ 'সারদা রিয়েলটি ইন্ডিয়া' নামে অর্থলগ্নি সংস্থা চালু করেন সুদীপ্ত। ২০০৮-এ বিষ্ণুপুর বিধানসভা কেন্দ্রে মদন মিত্র বিপুল ভোটে জয়লাভ করার পরে ওই তল্লাটে সিপিএম কোণঠাসা হয়ে পড়তে থাকে। আর তখন থেকেই সারদা গার্ডেনে সিপিএম নেতাদের বদলে তৃণমূল নেতাদের কারও কারও আনাগোনার সূচনা বলে অভিযোগ। সিপিএম বা তৃণমূল নেতৃত্ব কী বলছেন?
সিপিএমের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক সুজন চক্রবর্তীর মন্তব্য, "আমাদের কোনও নেতা-কর্মী ওখানে যেতেন বলে শুনিনি। খোঁজ নেওয়া হবে।" আর পরিবহণমন্ত্রী মদনবাবুর দাবি, "বহু লোক তো আমার কাছে আসতেন। কার কী উদ্দেশ্য, জানব কী করে?" নেতা-মন্ত্রীরা 'না-জানলেও' বিচক্ষণ সুদীপ্ত নিজের উদ্দেশ্য খুব ভাল ভাবে জানতেন বলে সারদা সংস্থার কর্মীদের একাংশের অভিমত। ওঁদের বক্তব্য, সুদীপ্ত তত দিনে আঁচ পেয়ে গিয়েছিলেন যে, রাজ্যে পালাবদল ঘটতে চলেছে। তাই ধীরে ধীরে তৃণমূলের রাজ্যস্তরের কিছু নেতার সঙ্গে তিনি 'সুসর্ম্পক' গড়ে তোলেন। "ভোটের খরচ হোক বা ব্যক্তিগত প্রয়োজন কিছু নেতাকে টাকা জোগাতে সেন সাহেব কখনও পিছপা হতেন না।" মন্তব্য এক কর্মীর। সারদা গার্ডেনের এক কর্তা বলেন, "কোন মুনি কোন মন্ত্রে সন্তুষ্ট, তা বুঝতে সেন সাহেবের দেরি হতো না। পুুলিশের অনেক বড়কর্তা তো বটেই, ছোট-মেজ-সেজ, সব ধরনের অফিসারের সঙ্গে দহরম-মহরম রাখতেন। প্রয়োজনের সব জায়গায় নিয়মিত ভেট পাঠাতেন।"অতএব, সারদার বিজয়রথের গতি অব্যাহত থাকে। চোদ্দো বছর ধরে তা মসৃণ গতিতে চলেছে। অমরীশ-প্রেম-শক্তির মোকাবিলায় আবির্ভূত হননি কোনও অমিতাভ বচ্চন বা ধর্মেন্দ্র। বরং অবাস্তব ও মিথ্যের বুনিয়াদে গড়ে তোলা সাম্রাজ্য নিজের কৃতকর্মের ভারে নিজেই ভেঙে পড়েছে। সিনেমায় যেমন হয় না!
http://www.anandabazar.com/25bus5.html

মাঝপথেই লোপাট বহু টাকা
বাটপাড়েরা সিঁধ কেটেছিল সুদীপ্তর ভাঁড়ারেই
 যেন চোরের ঘরে বাটপাড়ির গল্প। যে সুদীপ্ত সেন লক্ষ লক্ষ আমানতকারীকে প্রতারণার দায়ে এখন পুলিশ হেফাজতে, তাঁর ঘরেই দীর্ঘদিন ধরে সিঁধ কেটেছেন তাঁরই ঘনিষ্ঠরা। তদন্তে নেমে তা জানতে পারে পুলিশ। পুলিশের একটি সূত্রের বক্তব্য, যে প্রতারণা ব্যবসা খুলে বসেছিলেন সুদীপ্ত, তাতে তাঁর সাম্রাজ্য এক দিন ভেঙে পড়তই। তবে অন্য কারণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠদের পাল্টা প্রতারণাও সেই ভাঙনকে ত্বরান্বিত করেছে। 
পুলিশ সূত্রের খবর, সারদার পন্জি স্কিম ভেঙে পড়বে ধরে নিয়ে বছর দুয়েক আগে থেকেই আমানতকারীদের টাকা সরিয়ে বেনামে সম্পত্তি কেনার কাজ শুরু করেছিলেন সুদীপ্ত সেন। তত দিনে কিন্তু তাঁর ঘরে সিঁধ কাটার কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। তদন্তে পুলিশ জেনেছে, সুদীপ্তর কিছু বিশ্বস্ত কর্মী এবং এজেন্টই ছিলেন বিভীষণ। তাঁরাই আমানতকারীদের টাকা মাঝপথে উধাও করে দিচ্ছিলেন। ফলে সুদীপ্তবাবুর কোষাগারে টাকা জমা পড়ার বদলে উল্টে মোটা টাকা বেরিয়ে যাচ্ছিল। 
তাঁর ঘরেই যে চুরি চলছে, সেটা সারদার মালিক প্রথম বুঝতে পারেন গত বছর নভেম্বরে। সূত্রের খবর, তত দিনে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, দিনের খরচও উঠছে না। সারদার সব ক'টি সংস্থা চালাতে প্রতিদিন খরচ হতো গড়ে ৮০ লক্ষ টাকা। দেখা যাচ্ছিল, সেই টাকাও জোগাড় হচ্ছে না। তদন্ত সূত্রে খবর, সেই সময় ঘনিষ্ঠদের কাছে সুদীপ্তবাবু এমনও বলেছিলেন যে, তিনি আত্মহত্যা করবেন। যদিও তত দিনে সারদায় আমানতকারীদের মোটা টাকা তিনি পুরোদমে অন্যত্র সরাতে শুরু করে দিয়েছেন বলেই জানা গিয়েছে। 
তদন্তকারী অফিসারেরা জানিয়েছেন, শুধু এই বিভীষণেরাই নন, সাফারি নামে একটি সফ্টওয়্যার ব্যবহার করেও ডুবেছে সারদা। বস্তুত, বিভীষণেরা ওই সফ্টওয়্যারটিকে কাজে লাগিয়েই বাটপাড়ি করেছেন বলে তদন্তকারীদের একটি অংশের ধারণা। পুলিশের এক কর্তা বলেন, "হিসেবের খাতায় জমা-খরচে কোনও গরমিল নেই। অথচ সারদার ভাঁড়ারে আমানতকারীদের টাকা জমা পড়ত না শেষের দিকে।" তাঁর মন্তব্য, "উৎপাতের ধন চিৎপাতে গিয়েছে।" 
ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের একটি অংশ কী ভাবে ঠকিয়েছেন সুদীপ্ত সেনকে?
তদন্তকারী অফিসারেরা জানাচ্ছেন, সাফারি নামে সফ্টওয়্যারটির সাহায্যে টাকা তোলার কারবারের হিসেব রাখা যায়। এক জন আমানতকারী কোনও একটি 'স্কিমে' টাকা রাখলে সফ্টওয়্যার থেকে একটি পলিসি সার্টিফিকেট বের করে তাঁকে দেওয়া হতো। ঠিক যেমন জীবন বিমা পলিসি কেনার সময় দেওয়া হয়। এতে প্রিমিয়াম জমা করার তারিখ, পরিমাণ, স্কিমের মেয়াদ শেষের তারিখ এবং কত টাকা ফেরত পাওয়া যাবে, তা লেখা থাকত।
কিন্তু গোলমালটা ছিল অন্য জায়গায়। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, আসলে সারদার টাকা জমা নেওয়ার সফ্টওয়্যারটি ব্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। ফলে সফ্টওয়্যারে দেখানো জমা টাকা ব্যাঙ্কেও জমা পড়ছে কি না, তা জানার অবকাশ ছিল না। সুদীপ্তবাবু হাতে পেতেন রোজকার হিসেবের একটি প্রিন্ট আউট। সেখানে আমানতকারীদের নাম ধরে ধরে এন্ট্রি থাকত। সুদীপ্তবাবু কম্পিউটারে খুব সরগড় ছিলেন না বলেই পুলিশ প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছে। 
এই পরিস্থিতির ফায়দা তুলেই বিভীষণেরা টাকা সরিয়ে ছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। তদন্তকারীদের বক্তব্য, সারদার সবচেয়ে জনপ্রিয় স্কিমগুলি ৬ মাস বা ১ বছর মেয়াদি। কম সময়ে বেশি টাকা ফেরতের লোভে বহু মানুষ এই দু'টি স্কিমে টাকা রাখতেন। টাকা জমা নেওয়া হতো সারদার শাখা অফিসগুলিতে। শাখা-প্রধানদের কাছে থাকত সফটওয়্যার চালানোর পাসওয়ার্ড। টাকা জমা পড়লে তা সংশ্লিষ্ট আমানতকারীর নামে এন্ট্রি করা হত। কিন্তু বহু ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, সফ্টওয়্যারে টাকা জমার ঘরে এন্ট্রি করা হলেও বাস্তবে তা সারদার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি। পুলিশের খবর, অনেক সময় আমানতকারীরা দু-তিনটি কিস্তি দিয়ে হয়তো আর স্কিমটি চালাতে পারতেন না। নিয়ম অনুযায়ী, তখন ওই আমানতকারীর স্কিমটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু সফ্টওয়্যারে তা 'চালু' দেখানো হতো। স্কিমের মেয়াদ শেষে 'ম্যাচিওরিটি'র পুরো টাকাই তুলে নিতেন সংশ্লিষ্ট কর্তা অথবা এজেন্ট। সে জন্য সিস্টেমে নামও বদলে ফেলা হতো।
স্বল্পমেয়াদি স্কিমগুলির ক্ষেত্রে এই প্রতারণা ধরতে পারেননি সুদীপ্তবাবু। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি স্কিমগুলির টাকা ফেরতের সময় যত এগিয়ে আসে, তত তিনি বুঝতে পারেন, আমদানির চেয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে ঢের বেশি টাকা। তখন তাঁর সন্দেহ হয়। সল্টলেকের ডিএন-২৯ অফিসের কয়েক জন কর্তাকে সন্দেহ করতে শুরু করেন। সংস্থার যাবতীয় হিসেব দেখার জন্য কাঁকুড়গাছির বাসিন্দা সুদীপ ঘোষদস্তিদার বলে এক ব্যক্তির উপর নির্ভর করতেন তিনি। সাফারি-র মূল নিয়ন্ত্রণ ছিল তাঁরই হাতে। সুদীপ্তবাবু সন্দেহ করতে শুরু করেন, সুদীপই মাঝপথে টাকা সরাচ্ছেন। নভেম্বর মাসে এই ঘটনা ধরা পড়ার কিছু দিনের মধ্যেই সারদা ছেড়ে উধাও হন সুদীপবাবু। পুলিশ তাঁরও খোঁজ করছে। 
তদন্তকারীরা অবশ্য বলছেন, ঘনিষ্ঠদের প্রতারণাই সারদার সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ার একমাত্র কারণ নয়। তাঁদের বক্তব্য, নতুন টাকার অভাব হলেই পন্জি স্কিমের ভেঙে পড়ার কথা। এবং সেই সময়ে সংস্থা মালিকদের উধাও হয়ে যাওয়াটাই দস্তুর। সারদার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নভেম্বরে যে সংস্থায় বিপদের আঁচ পাওয়া গিয়েছিল, সেই সংস্থা জানুয়ারি থেকে আর কর্মীদের বেতন দিতে পারেনি। কোনও ভেন্ডরকেও টাকা দিতে পারেনি। সারদা বন্ধ হয়ে যাওয়া তখন সময়ের অপেক্ষা। আর আমানতকারীদের সর্বনাশেরও।


আত্মহত্যায় প্ররোচনার
মামলাও জুড়বে পুলিশ
সারদা গোষ্ঠীর যে সব এজেন্ট এবং আমানতকারী সম্প্রতি আত্মহত্যা করেছেন, তার দায় সারদা গোষ্ঠীর প্রধান সুদীপ্ত সেনের উপরেই চাপাতে চায় পুলিশ। যে সব এলাকায় ওই সব ঘটনা ঘটেছে, সেখানে মৃতের পরিবারকে দিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করানো হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর। ওই সব মামলায় সুদীপ্তবাবুর বিরুদ্ধেই সরাসরি অভিযোগ আনা হবে বলে স্বরাষ্ট্র দফতর সূত্রের খবর।
শুধু তাই নয়, সুদীপ্তবাবুর বিরুদ্ধে ১৪ বছরের পুরনো একটি খুনের মামলাও পুনরুজ্জীবিত করার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। দক্ষিণ শহরতলির বিষ্ণুপুর থানা এলাকায় ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি মাসে খুন হন বিশ্বনাথ অধিকারী নামে এক ব্যক্তি। সেই মামলায় সুদীপ্তবাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে অভিযুক্ত করেনি পুলিশ। নতুন পরিস্থিতিতে সুদীপ্তবাবুকে অভিযুক্ত করে সেই মামলাটি ফের আদালতে তোলা হতে পারে বলে স্বরাষ্ট্র দফতর সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
সারদা গোষ্ঠীর কর্ণধার সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে বুধবার পর্যন্ত সল্টলেকের ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় ছ'টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। প্রথম অভিযোগটি দায়ের করা হয় ১৬ এপ্রিল। অভিযোগকারিণী নাট্যকর্মী অর্পিতা ঘোষ। তিনি সারদা গোষ্ঠীর একটি চ্যানেলের প্রাক্তন কর্মী। বেতন না পাওয়ার অভিযোগে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন বলে জানা গিয়েছে। ওই একই থানায় একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে ফের ১৯ এপ্রিল সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ দায়ের করেন সারদা গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরা। বুধবার সারদা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস ও সারদা রিয়েলটির আমানতকারীরা আরও দু'টি অভিযোগ দায়ের করেন। এই ছ'টি অভিযোগের ভিত্তিতেই আপাতত সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০ এবং ৫০৬ ধারায় বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০৬ ধারাটি জামিনযোগ্য। 
পুলিশ কর্তারা জানাচ্ছেন, সুদীপ্তবাবু এবং তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, সত্য গোপন করে প্রতারণা, জমির দলিল বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ নথি নকল করা এবং কারচুপির অভিযোগও আনা হতে পারে। বেআইনি ভাবে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত কিছু অভিযোগও আসতে পারে। নিজেদের আইনে মামলা করতে পারেন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, সেবি এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড কর্তৃপক্ষও। যেমন যেমন অভিযোগ মিলবে, সেই মতো নতুন অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে স্বরাষ্ট্র দফতর সূত্রের খবর। সারদার সব ধরনের টাকার 'আউট ফ্লো' এবং 'ইন ফ্লো' বন্ধ করা হয়েছে। এই সংস্থার তিন মাসের অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের সবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করা হচ্ছে। রাজ্যে চলচ্চিত্র উৎসবের সময় বেশ কিছু নৈশভোজের দায়িত্ব নিয়েছিল সারদা গোষ্ঠী। সেই টাকা কাকে কোথায় দেওয়া হয়েছিল, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশ্ন ওঠে জঙ্গলমহলে ওই গোষ্ঠীর অ্যাম্বুলেন্স দান প্রসঙ্গেও। বিধাননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দা প্রধান অর্ণব ঘোষ বলেন, "অ্যাম্বুল্যান্স সাধারণ মানুষের কাজে লাগছে। তা নিয়ে তদন্ত করলে তো তদন্ত শেষ হবে না! শিলিগুড়িতে সারদা একটি স্কুলও চালায়। তা হলে সেটাও বন্ধ করে দিতে হবে!"


যে সব ধারায় মামলা
ধারা অভিযোগ সর্বোচ্চ সাজা
৪০৬ বিশ্বাসভঙ্গতিন বছর জেল
৪২০প্রতারণা সাত বছর জেল
৫০৬ ভয় দেখানোদু'বছর জেল
আইনজীবীরা বলছেন
আরও যে ধারা যুক্ত হতে পারে
ধারা অভিযোগসর্বোচ্চ সাজা
১২০ বিঅপরাধমূলক ষড়যন্ত্র অপরাধের গুরুত্ব বুঝে
৪২১ সত্য গোপন করাদু'বছর জেল
৪৬৭জমির দলিল/নথি নকল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
৪৬৮ প্রতারণার জন্য কারচুপিসাত বছর জেল

মামলা হতে পারে যে সব আইনে
• চিটফান্ড অ্যাক্ট (১৯৮২)
• প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (২০০২) 
• প্রাইজ চিটস অ্যান্ড মানি সার্কুলেশন অ্যাক্ট (১৯৭৮)
মামলা করতে পারে
• রিজার্ভ ব্যাঙ্ক • সেবি • প্রভিডেন্ট ফান্ড কর্তৃপক্ষ

http://www.anandabazar.com/25bus2.html


No comments:

LinkWithin

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...